২০২৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ক্ষমতাধর দেশ
২০২৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ক্ষমতাধর দেশ
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্ষমতার প্রকাশ বহুমুখী। একটি দেশের ক্ষমতা নির্ভর করে তার রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক সম্পদ এবং সামরিক শক্তির ওপর। ২০২৫ সালের জন্য মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএস নিউজ বিশ্বের ১৯৫টি দেশের মধ্যে শীর্ষ ১০ ক্ষমতাধর দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকা প্রস্তুত করতে পাঁচটি মূল বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়েছে: নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক প্রভাব, রাজনৈতিক প্রতিপত্তি, শক্তিশালী আন্তর্জাতিক জোট এবং সামরিক শক্তি।
শীর্ষ ১০ ক্ষমতাধর দেশ:
১. যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ। প্রযুক্তি, অর্থনীতি, বিনোদন ও সামরিক শক্তিতে এর আধিপত্য অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বাইডেন প্রশাসন অবকাঠামো উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া, অ্যাপল, গুগল, মাইক্রোসফটের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
২. চীন
চীন তার বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে। এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য ও অবকাঠামো সংযোগ গড়ে তুলছে দেশটি। এছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ৫জি প্রযুক্তিয় চীনের অগ্রগতি তাকে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
৩. রাশিয়া
প্রাকৃতিক সম্পদ ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর জোরে রাশিয়া বৈশ্বিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশটি মহাকাশ গবেষণায়ও বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে, যেমন ভেনাস ল্যান্ডার মিশন (ভেনেরা-ডি) এবং চাঁদে অভিযান।
৪. যুক্তরাজ্য
ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য নতুন বাণিজ্য চুক্তি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করছে। লন্ডন স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।
৫. জার্মানি
ইউরোপের অর্থনৈতিক শক্তিধর জার্মানি সবুজ জ্বালানি ও ডিজিটাল রূপান্তরে নেতৃত্ব দিচ্ছে। দেশটি কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করেছে।
৬. দক্ষিণ কোরিয়া
স্যামসাং, এলজি, হুন্দাইয়ের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো দক্ষিণ কোরিয়াকে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিশ্বনেতা বানিয়েছে। দেশটি সবুজ জ্বালানির দিকেও অগ্রসর হচ্ছে।
৭. ফ্রান্স
ফ্রান্স ডিজিটাল রূপান্তর ও জলবায়ু নীতিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে এর রাজনৈতিক প্রভাবও ব্যাপক।
৮. জাপান
অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পে জাপানের দাপট রয়েছে। দেশটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সেমিকন্ডাক্টর এবং ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনে বিনিয়োগ করছে। তবে, জনসংখ্যা হ্রাস ও প্রবীণদের সংখ্যা বৃদ্ধি জাপানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
৯. সৌদি আরব
তেল সম্পদে সমৃদ্ধ সৌদি আরব ওপেক (OPEC)-এ প্রভাবশালী ভূমিকা রাখে। দেশটি পর্যটন ও বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যেমন নিয়ম (NEOM) শহর এবং ২০৩৪ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন।
১০. ইসরায়েল
প্রযুক্তি ও সাইবার সিকিউরিটিতে ইসরায়েলের সাফল্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। দেশটির স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে অবদান রাখছে।
২০২৫ সালের শীর্ষ ক্ষমতাধর দেশগুলোর তালিকা থেকে বোঝা যায়, অর্থনৈতিক শক্তি, প্রযুক্তিগত উন্নতি, সামরিক শক্তি এবং কূটনৈতিক প্রভাবই একটি দেশের ক্ষমতা নির্ধারণ করে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখলেও রাশিয়া, জার্মানি ও ভারতের মতো দেশগুলোও তাদের প্রভাব বাড়াচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও সবুজ শক্তির দৌড়ে কোন দেশ এগিয়ে যাবে, তা নির্ধারণ করবে বৈশ্বিক ক্ষমতার নতুন সমীকরণ।










মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন